টাকা ছাড়া মিলছে না সুবিধাবঞ্চিত কার্ড, মুক্তিযোদ্ধাসহ ৮০ ভুক্তভোগীর অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর মুক্তিযোদ্ধা আহসান হাবিবসহ এলকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ।

শিবগঞ্জের ধাইনগর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত, ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী ইউপি সদস্য ও মহিলা সদস্য ও গ্রাম পুলিশ টাকার বিনিময়ে কার্ড দিচ্ছে। টাকা না দিলে কোন কার্ড মিলছে না অসহায়দের ভাগ্যে। কার্ডপ্রতি ৫/৬ হাজার টাকা করে আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নে।

গত ৩০ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর মুক্তিযোদ্ধা আহসান হাবিবসহ এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ প্রতিবেদক দেওয়া ভুক্তভোগী ৮০জনের স্বাক্ষতির একটি অভিযোগ ও সরজমিনে এলাকাবাসীর ভিডিও রেকর্ড হতে জানা গেছে।

অভিযোগে জানা গেছে ৮টি পরিবারের নিকট হতে ৩৮ হাজার ৫শ টাকা নিয়েছে। আরো কয়েকটি পরিবার অভিযোগ করে বলেন তারা টাকা দিতে পারায় তাদের কার্ড হবে না বলে জানিয়েছে।

অভিযোগকারীদের সূত্র অনযায়ী, গ্রাম পুলিশ আনারুল ইসলাম ধাইনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪৩ জনের নিকট হতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৫০ টাকা আদায় করেছে এবং তাদের কার্ড দিয়েছে। একইভাবে ধাইনগর ইউপির মহিলা সদস্য রুমালী বেগম ৭ জনের নিকট হতে ২৭ হাজার ৩শ টাকা, শুকুরিয়া বেগম ৩ জনের নিকট হতে ৭ হাজার ৫শ টাকা, মর্জিনা বেগম ২ জনের নিকট হতে ৬ হাজার টাকা ও শুকুদ্দি ১ জনের নিকট হতে ১২ হাজার আদায় করেছে।

ভুক্তভোগী ধাইনগর ইউনিয়নের নামোটোলা গামের প্রতিবন্ধী আনারুল, জানান আমি গ্রাম পুলিশ আনারুলকে প্রতিবন্ধীর কার্ড পেতে ৪ হাজার ২শ টাকা দিয়েছি।

একই সুরে কথা বললেন কল্যাণপুরের আনুয়ারা বেগম, জমেসা বেগম, চিকি বেগমসহ প্রায় ৪৩ জন কার্ড পেতে গ্রাম পুলিশ আনারুলকে টাকা দিয়েছি। আয়েদা ওই ইউনিয়নের হাউসনগর গ্রামের আয়েদা বেগম জানান কার্ড পাওয়া আশায় গ্রাম পুলিশ আনারুলকে ৪ হাজার টাকা দিয়েও এ পর্যন্ত কার্ডও পাইনি, টাকাও ফেরত পাইনি।

চৈতন্যপুরের সেলিনা বেগম জানান, রুমালী বেগমকে ৪ হাজার টাকা দিয়েছে শুধু একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য। এভাবে প্রায় ৮০ জনের নিকট হতে ৩ হাজার ও উদ্ধে ৬ হাজার টাকা নিয়েছে বলে ৮০ জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ জানা গেছে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আরো অনেকের নিকট হতে টাকা নেয়া হয়েছে যারা ভয়ে মুখ খুলছে না। এলাকার নিরপেক্ষ ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান হাবীব, অবসর প্রাপ্ত সৈনিক শাহিন, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, আতাউর রহামন ও মুকুলসহ অনেকেই এ ঘটনার সত্যতা আছে দাবী করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিকার দাবি করেন।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, তারা শতাধিক ব্যক্তির নিকট টাকা নিলে এ পর্যন্ত মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ভুক্তভোগী কার্ড পেয়েয়ে এবং বাকীরা এখনো কোন কার্ড পাইনি এবং টাকাও ফেরত পাইনি।

এ ব্যাপারে ধাইনগর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আনারুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কয়েকজন মাদকাসক্ত ও চরিত্রহীনকে আমি অবৈধ কাজে বাধা দেওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। আমি গ্রাম পুলিশের একটি ছোট চাকরি করি। কখন কিভাবে বয়স্ব, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও প্রতিবন্ধীদের কার্ড হয় তা জানি না। টাকা নিয়ে কার্ড নেয়া তো দূরের কথা। যা আমার চেয়ারম্যান সবকিছুই জানেন।

অন্যদিকে ধাইনগর ইউপির ৭, ৮ ও নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য রুমালী বেগমও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার কোটায় মাত্র ৪টি কার্ড পেয়েছিলাম। ৪জন অসহায়কে দিয়েছে। কোন টাকা নেইনি। একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

ইউপি চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী জানান, ‘কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আসলে গ্রাম পুলিশ ও মহিলা ইউপি সদস্য রুমালী বেগম কোন টাকা নেয়নি। তিনি আরো জানান যদি কেউ প্রমান সাপেক্ষে আমার নিকট অভিযোগ করে তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার কাঞ্চন কুমারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বয়স্ব, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতার কার্ডে কোন টাকা লাগেনা। যদি কেউ টাকা দিয়ে থাকে তবে সে টাকা ফেরতের ব্যাপারে আমরা সহযোগিতা করবো এবং তার কার্ডটি জরুরী ভিত্তিতে করে দিবো।

তিনি আরো জানান, ‘উপজেলায় এখনো প্রায় ২০হাজার সুবিধা ভোগী এখনো এধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছে। তার মধ্যে নদীভাংগন এলাকা সহ মনাকষা, দূর্লভপুর, পাকা, উজিরপুর, বিনোদপুর শ্যামপুরে বেশী অসহায় পরিবার এ ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে এ সুবিধা দেওয়ার।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে কোন আসেনি, তিনি আরো জানান, অসহায়দের সাহায্য করতে সরকার বদ্ধপরিকর, আমরা সরকারের অংশ, তাই যদি কেউ কোন অসহায় ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সাথে এ ধরনের প্রতারণা করে থাকে তবে সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তার কোন ছাড় নেই। সঠিক তদন্ত পূর্বক জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>