গ্রেপ্তারকৃত ছরোয়ার হোসেন কামার ও মাহফুজুর রহমান সাদিক।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৪) গণধর্ষণের অভিযোগে দুই কলেজ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শেরপুর সদর উপজেলার কালিয়াপাড়া গ্রামের আ. রহমান কামারের ছেলে ছরোয়ার হোসেন কামার (২১) ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার নশরতপুর গ্রামের মোকছেদুল সরকারের ছেলে মাহফুজুর রহমান সাদিক (১৭)। তারা গৌরনদীর একটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউটের ছাত্র।

এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু ধর্ষণ আইনে তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ছাত্র সাজ্জাদ হোসেন শাওনের (১৯) সঙ্গে পরিচয় গড়ে ওঠে। সাওন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার রতনদী (হাটবাড়ীয়া) গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে।

ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই ছাত্রী জানান, কয়েকদিন আগে সাওন অসুস্থতার কথা বলে গৌরনদীর উত্তর বিজয়পুরস্থ প্রবাসী মাহাবুর রহমানের (জান্নাত মঞ্জিলে) ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। এরপর তার ওপর দুই সহযোগীকে নিয়ে পালাক্রমে তিনজন মিলে ধর্ষণ করে। এরপর ধর্ষণের ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে আসছিল তিন ধর্ষক।

আজ সোমবার সকালে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় সাজ্জাদ হোসেন শাওন (১৯), ছরোয়ার হোসেন কামার (২১) ও মাহফুজুর রহমান সাদিককে (১৭) আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন

 

গৌরনদী মডেল থানার ডিউটি অফিসার মো. আসাদুজ্জামান খান জানান, ওই ছাত্রীর মা থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছরোয়ার হোসেন কামার ও মাহফুজুর রহমান সাদিককে গ্রেপ্তার করেছে এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে। দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের বরিশাল আদালতে এবং ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>