শোকে স্তব্ধ ক্রাইস্টচার্চের হামলায় নিহত জাকারিয়ার পরিবার, ইনসেটে জাকারিয়া ভূইয়া (৩৪)। ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৪৯ মুসল্লির মধ্যে রয়েছেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জাকারিয়া ভূইয়া (৩৪) নামে এক যুবক। বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হওয়ার খবর পরিবারের কাছে পৌঁছালে পুরো পরিবার শোকে স্তব্দ হয়ে পড়ে। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো গ্রাম জুড়ে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে জয়পুরা গ্রাম।

শনিবার সরেজমিনে জাকারিয়ার গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, সন্তান হারা পরিবারের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এসে পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। জাকারিয়ার মা শাহানারা বেগম ও তার স্ত্রী রিনা আক্তার শোক সইতে না পেরে কিছুক্ষণ পরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তাদের শান্তনা দেওয়ার ভাষা খুজে পাচ্ছে না কেউ।

ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত জাকারিয়ার বাবা আব্দুল বাতেন ভূইয়া জানান, ‘শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে বাড়ি আসার পথে নিউজিল্যান্ড থেকে জাকারিয়ার এক সহকর্মী ফোন করে জানায়, সেখানের এক মসজিদে গোলাগুলি হয়েছে। এতে জাকারিয়া গুরুত্বর আহত হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরে আবার খবর আসে জাকারিয়া আর নেই। গত আড়াই বছর হলো সে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছে। এর মধ্যে ছেলেকে হারাবো তা কখনো কল্পনা করিনি’।

তিনি আরও জানান, ‘নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার আগে একমাসের জন্য জাকারিয়া একবার বাড়ি এসেছিল। তখন বিয়ে করে সতের দিনের মাথায় নিউজিল্যান্ডে চলে যায়। এবার রমজান ঈদে তার বাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু এখন আমরা তার লাশের অপেক্ষায় রয়েছি’।

জানা যায়, জাকারিয়া প্রায় আড়াই বছর আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে পাড়ি দেয়। সেখানে তিনি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ওয়েল্ডার টেকনোশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ৮ বছর সিঙ্গাপুরে কর্মরত ছিলেন। সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায়ই জাকারিয়া নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। শুক্রবার ঘটনার সময় তিনি জুমার নামাজ পড়তে আল নূর মসজিদে গিয়েছিলেন। পরে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ মুসল্লির মধ্যে জাকারিয়াও নিহত হন। জাকারিয়া ভূইয়া পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের আব্দুল বাতেন ভূইয়ার ছেলে। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে জাকারিয়া ছিলেন ৪র্থ।

 

উল্লেখ্য, শুক্রবারের নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে চালানো হামলায় নিহত হন ৪৯ জন। রাস্তায় ও মসজিদের ভেতরে নামাজরত অবস্থায় নির্বিচারে গুলিতে আল নূর মসজিদে ৪১ জন এবং লিনউডে ৭ জন নিহত হন। হাসপাতালে মারা যান আরও একজন। এমনকি গুলি করার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে ছিলেন হামলাকারী। ১৭ মিনিট ধরে ওই হামলার লাইভ ভিডিও প্রচারিত হয়। হামলাকারী ক্যামেরাটা তার মাথার সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন। তার অস্ত্রগুলোর ওপরে সাদা রঙে কিছু লেখাও ছিল।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>