প্রতিবেদক

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটার উপস্থিতির হার আরও কমেছে। এই ধাপে ভোটার উপস্থিতির হার ৪১ দশমিক ২৫ ভাগ। এর আগে প্রথম ধাপের ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩২ ভাগ। বুধবার নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও দ্বিতীয় ধাপের ভোট শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ধাপে ভোটার উপস্থিতি প্রথম ধাপের তুলনায় বেশি হবে।

ইসি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ১২৩ উপজেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন ৭৪ জন। যার মধ্যে ২৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৩৮ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে। পাশাপাশি বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন দুটি উপজেলায়। রাঙামাটির ৮ উপজেলার ফল এখনও পাওয়া যায়নি এবং আদালতের আদেশে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

এর আগে প্রথম ধাপে ৮১ উপজেলার মধ্যে ১৮টির চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বাকিগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীতরা জয়ী হন ৪৩ উপজেলায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হন ২৩টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে।

ইসি সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৮ দশমিক ৬৩ ভাগ। এই উপজেলায় মোট ভোটার ছিলেন এক লাখ ৭০ হাজার ৪৫৯ জন। ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৪ হাজার ৭০৪ জন। ৪৪৭টি ভোট বাতিল করা হয়েছে। ছয় হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ আবু জাহিদ।

এই ধাপের ১১৬ উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে একই জেলার জৈন্তাপুর উপজেলায়। এক লাখ ৬ হাজার ৬২২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১০ হাজার ছয়জন। ভোটের হার ৯ দশমিক ৩৮ ভাগ। এর মধ্যে ২৩৮ ভোট বাতিল করা হয়েছে। এই উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামাল আহমদ ঘোড়া প্রতীকে পাঁচ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় ৭৯ দশমিক ৬৭ ভাগ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিমল কান্তি চাকমা কাপপিরিচ প্রতীকে ১৯ হাজার ৮৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ উপজেলায় মোট ভোটার ৩১ হাজার ৮৯৩ জনের মধ্যে ২৫ হাজার ৪০৯ জন ভোট দিয়েছেন।

১৮ মার্চ ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখেই বোঝা গিয়েছিল পাহাড়ের ২৫ উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি বেশি। তবে সমতলের উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ৬৬ দশমিক ৫০ ভাগ এবং বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ৬৫ দশমিক ৩২ ভাগ। এই দুটি উপজেলাতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>