শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরের সেবায়েতের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার সনাতন ধর্মালম্বীরা

সিলেট প্রতিনিধি:


গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণে সনাতন ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরের সেবায়েত রাধা বিনোদ মিশ্রের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের সনাতন ধর্মালম্বীরা। মহাপ্রভুর মন্দিরের নামের সকল সম্পত্তি, আয় এবং ভক্তবৃন্দের দান ইচ্ছেমতো ভোগ দখল এবং আত্মসাৎ করে চলেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

রবিবার (১৫ই সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, মন্দিরের সেবায়েত রাধা বিনোধ মিশ্র সব নিয়ম নীতি ও ধর্মীয় অনুভূতিকে অবজ্ঞা করে মন্দিরটি নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছেন। দেশ বিদেশ থেকে আগত ভক্তবৃন্দ মন্দিরে এসে সেবার পরিবর্তে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হোন। তারা মন্দিরের কোন ধরণের সুযোগ সুবিধা পাননা। অপরদিকে, মন্দিরে আগত হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের মন্দির উন্নয়নে দানকৃত অর্থের কোন হিসাব নেই। এমনকি, ভোগের জন্য যেসকল খাদ্য সামগ্রী ভক্তবৃন্দ দান করে থাকেন তাও সেবায়েত ভক্তবৃন্দের মধ্যে বিতরণ না করে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া ঠাকুর বাড়ির প্রাঙ্গনে অতি প্রাচীন পুকুরটি সমগ্র সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের কাছে একটি পবিত্র স্থান এবং সেই পুকুরে স্নান ও এর পানি আহরণ করে থাকেন ভক্তবৃন্দ।

কিন্তু সেবায়েত রাধা বিনোধ মিশ্র সম্পূর্ণ বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারীভাবে পুকুরটি জনৈক ব্যক্তির কাছে মাছ চাষের জন্য ইজারা দিয়েছেন। ইজারাদার পুকুরে মাছ চাষ করায় এবং বিধি নিষেধ আরোপ করায় পূর্র্ণার্থীরা পুন্য স্নান করতে পারেন না। মাছের খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন জৈব অজৈব পদার্থ পানিতে নিক্ষেপ করায় পুকুরের পবিত্রতা বিনষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগে তারা বলেন, মন্দির পরিচালনার জন্য মহামান্য আদালত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে একটি সার্বজনীন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিলেও সেবায়েত নিজের ইচ্ছেমতো মন্দির পরিচালনা করে চলেছেন। সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রচারক শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর পিতৃভূমি ঐতিহ্যবাহী ঢাকাদক্ষিণে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত শত শত বছরের প্রাচীন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির, যা সমগ্র বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্ভীদের অন্যতম একটি তীর্থস্থান এবং বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের একটি অংশ। কিন্তু বর্তমানে মন্দিরের সেবায়েত রাধা বিনোধ মিশ্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরটি সার্বজনীনতা হারাতে বসেছে। অতীতেও বিভিন্ন সময় তারা অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি। সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম এই তীর্থভূমির পবিত্রতা রক্ষায় তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

অভিযোগে উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কাজল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক লিপটন রঞ্জন তালুকদার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি দাশ, ঢাকাদক্ষিণ সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ণু ভূষন দেব, সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ দেব সহ সনাতন ধর্মালম্বী প্রায় শতাধিক মানুষ স্বাক্ষর করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কাজল কান্তি দাশ বলেন, প্রায় ১২ বছর পূর্বে আদালতের নির্দেশ ছিল সেবায়েত রাধা বিনোধ মিশ্র সেবায়েত হিসেবে থাকবেন তবে স্থানীয় গন্যমান্য সনাতন ধর্মাবলাম্ভীদের নিয়ে একটি সার্বজনীন কমিটি গঠনের মাধ্যমে মন্দির পরিচালনা করবেন। কিন্তু অদ্যবধি কোন সার্বজনীন কমিটি না করে তাহার নিজের ইচ্ছেমতো পুকুর লিজ, বারুণী মেলা এবং দেশ বিদেশ থেকে আগত পূন্যার্থীদের সাথে অসৌজন্য আচরণ এবং পূন্যার্থীদের দানকৃত টাকা পয়সাসহ বিভিন্ন ভোগ সামগ্রী তার নিজ ইচ্ছায় ব্যয় করেন এবং বিক্রি করেন। যার কোন হিসাব নিকাশ কাউকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেন না।

ঢাকাদক্ষিণ সার্বজনীন দূর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ দেব বলেন, সেবায়েত রাধা বিনোধ মিশ্র দীর্ঘদিন থেকে মহাপ্রভুর মন্দির পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারীতা ও অনিয়ম করে আসছেন। আমরা চাই এই পবিত্র মন্দির পূন্যার্থীদের শান্তিময় স্থানে পরিনত হোক। কোন পক্ষপাতিত্বের প্রয়োজন নেই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যেনো এই পবিত্র স্থানের পবিত্রতা রক্ষা করেন।

এ ব্যাপারে সেবায়েত রাধা বিনোধ মিশ্র বলেন, এখানে তো জেলা প্রশাসক এর কিছু করার নেই। জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আমার রিট করা আছে। হঠাৎ করে এই অভিযোগ তারা করল কীভাবে? আমি বুঝতে পারছি না।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>