দেশের ক্রিকেটে রাহীর পর বালাগঞ্জের আরেক স্বপ্নসারথি সাকিব।

মুমিন মিয়া : বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবু জায়েদ রাহির পর দেশের ক্রিকেটের আরেক স্বপ্নসারথির দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের তিলকচাঁনপুর গ্রামের ইংল্যান্ডে দ্যুতি ছড়িয়ে ফিরলেন বাংলাদেশের আরেক সাকিব। তিনি হচ্ছেন অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ডান হাতি পেসার তানজিম হাসান সাকিব। সিলেটের বালাগঞ্জের এই কিশোরকে আগামীতে বাংলাদেশের বড় সম্পদ মনে করা হচ্ছে।

বয়স মাত্র ১৬, কিন্তু এই বয়সেই অনেকের নজর কেড়েছেন। বছরের শুরুতে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজে আলো ছড়িয়েছিলেন। এতটুকু বয়সে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনেও অভিষেক হয়ে গেছে। শুধু অভিষেক হয়েছে বলে নয়, ডিপিএলে বিকেএসপির হয়ে নিয়মিত উইকেট নিয়ে বাড়তি আলোচনা সৃষ্টি করেছেন সাকিব।

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে বল হাতে নিয়মিত ভালো করা সাকিবকে নিয়ে এখনই স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নীতি নির্ধারকরা। ১৭ বছর হওয়ার আগেই এ বছরই এসএসসি দেওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে মতো পেশাদার লীগে সিনিয়রদের বিপক্ষে যেই পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তা প্রশংসার দাবীদার। ইংল্যান্ডে নতুন বলে নিয়মিত উইকেট এনে দিয়েছেন। এই রকম পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুর্ধ ১৯ এর হয়ে আগে কেউ করতে পারেনি।

একমাত্র পুত্র সাকিবকে নিয়ে বড় সপ্ন বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তিলক চাঁনপুর গ্রামের মোঃ গৌছ আলী ও সেলিনা পারভিন দম্পতির।

২০০২ সালে জন্ম সাকিবের ছোটবেলাই ক্রিকেট ছিল ধ্যান-জ্ঞান। সাকিবের বিদ্যার হাতেখড়ি আদিত্যপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পড়াশোনায়ও ছিলো দারুণ মেধাবী। পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি নিয়ে ভর্তি হয় বালাগঞ্জ ডি এন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে অধ্যয়নত অবস্থায় (২০১৬ সালের প্রথম দিকে) বিকেএসপির তৃণমূল বাছাইয়ে অংশ নেয়। মৌলভীবাজার জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বাছাইয়ে শাকিব ফাস্ট বোলার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে।

সে বছরই বিকেএসপি থেকে তার ডাক এলে তাকে ঢাকার সাভারস্থ বিকেএসপিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে পড়ালেখার পাশাপাশি চলে নিয়মিত ক্রিকেট অনুশীলন। ঐ বছর বিকেএসপি স্কুলে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাকিব গোল্ডেন-এ প্লাস পায়।

এর কিছুদিন পরে সে অনুর্ধ্ব-১৮ ডিভিশন টুর্নামেন্টে বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করায় নির্বাচকদের নজরে পড়ে। ডাক পায় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৭ দলে। গত বছরের মার্চে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে অসাধারণ বোলিং করে সাকিব।

বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম বলেন, ছোট বেলা থেকে আমি ওকে দেখছি লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি ওর যে টান সেটা থেকেই ও আজ এপর্যন্ত এসেছে। আমি অত্যন্ত গর্ববোধ করি সাকিব আমার চাচাতো ভাই হিসেবে। পাশাপাশি ও আমার ইউনিয়নের ছেলে দেশের হয়ে খেলছে। আশারাখি ও জাতীয় দলের হয়ে একদিন বিশ্বকাপ খেলে বিশ্বজয় করবে। সেই সাথে নিয়মিত ভালো করা এই কিশোরকে নিয়ে অনেক সপ্ন তার

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>