স্পোর্টস ডেস্ক:

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশ
খেলেননি প্রথম শ্রেণীর কোনও ম্যাচ। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে খেলেছেন ১৯টি ম্যাচ আর ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে অভিজ্ঞতা আছে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার। তা নিয়েই নেমে পড়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। যদিও অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল, হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) আর বিসিবি একাদশের হয়ে খেলার।
তাতেই নির্বাচকদের নজরে চলে এসেছেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ছিলেন ব্যাটসম্যান, এখন বোলার। তাও আবার একজন লেগ-স্পিনারের জন্য হন্য হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের আশার আলো এখন ১৯ বছর বয়সী আমিনুল।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় দলের নেটে বোলিং অনুশীলনের সময় আমিনুলকে কিছুটা নার্ভাস দেখা গেলেও আজ যেন উল্টো। ৪ ওভার বোলিং করে ৪.৫০ গড়ে মাত্র ১৮ রান দিয়েছেন, তুলে নিয়েছেন ২টি উইকেট। ছিল ৯টি ডট বল। অতিরিক্ত রান দিয়েছেন মাত্র ১টি।
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যেতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনও বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমিনুলের অভিষেক যে কাউকেই ভাবাতে পারে। অভিষেক শুধু আমিনুলেরই হয়নি, নিয়মিত ওপেনার সৌম্য সরকারকে বাদ দিয়ে নেয়া হয়েছে তরুণ ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তকে।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় জিম্বাবুয়ে।

ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগার দুই ওপেনার শান্ত ও লিটন দাসের জুটি থেকে আসে ৪ ওভার ৫ বলে ৪৯ রান। যদিও শান্তর ব্যাটে আসে মাত্র ১১ রান। কাইল জার্ভিসের বলে কট এন্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন এই অভিষিক্ত।

এরপর ২২ বলে ৩৮ রান করে লিটনও ফেরেন সাজঘরে। সাকিব আসলেন ১০ রান করে ফিরলেন রায়ান বার্লের বলে ক্যাচ দিয়ে।
৭ ওভার ২ বলের মাথায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার শেষ ৬৫ রানে। এই ধাক্কাটা সামলান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ। এই দুইয়ের জুটি থেকে আসে ৭৮ রান।
মুশফিক ২৬ বলে ৩২ রানে ফেরার পর মাহমুদুল্লাহ তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে চতুর্থ অর্ধশতক।

আফিফ হোসাইন তার সহজাত খেলাটা খেলতে পারেননি আজ। মাত্র ৭ রানে কাঁটা পড়েন ক্রিস্টোফার এমপোপোর বলে।
মাহমুদুল্লাহ টিকে থাকেন ১৯ ওভার ৩ বল পর্যন্ত। তার ৪১ বলে ৬২ রানের ইনিংসে ভর করে জিম্বাবুয়েকে ১৭৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ৩ উইকেট নেন কাইল জার্ভিস, ২টি উইকেট নেন এমপোপো ও ১টি করে উইকেট নেন রায়ান বার্ল আর মুতমবদজি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা শুরু থেকে উইকেট দিতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাইফউদ্দিনের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ব্রেন্ডন টেইলর। এরপর সাকিব আল হাসান ফেরান ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে আসা রেগিস চাকাবাকে। দুইজনই খুলতে পারেননি রানের খাতা।
এই সিরিজের শেষ তিন ম্যাচের জন্য ডাক পাওয়া শফিউল ইসলামও পেয়েছেন উইকেট নিজের প্রথম ওভার করতে এসে। শেন উইলিয়ামসকে মাত্র ২ রানে ফেরান সাজঘরে।
ইনিংসের ষষ্ঠতম ওভারে অভিষিক্ত আমিনুল তার অভিষেক ওভারেই পেয়েছেন উইকেটের দেখা। টিনোটেন্ডা মুতমবদজিকে ফিরিয়ে মাতেন উইকেট পাওয়ার আনন্দে। টিনোটেন্ডা ১১ রান করে ক্যাচ দেন আরেক অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে।
রায়ান বার্ল এদিন সুবিধা করতে পারেননি ব্যাট হাতে। মাত্র ১ রানেই বিদায় হন শফিউলের বলে।
হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, এই সিরিজটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ সিরিজ। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের সঙ্গেও তার বিদায়ী ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন। ইতি টেনেছেন ২৫ বলে ২৫ রান করে।

দলের যখন ৬৬ রানে ৬ উইকেট নেই, তখন দলের হাল ধরেন মুতম্বামি ও কাইল জার্বিস। দুজনে জুটি গড়েন ৫৮ রানের। মুতম্বামি তুলে নেন অর্ধশতক। ৩২ বলে ৫৪ রান করে বিদায় নেন তিনি। শেষ দিকে কাইল জার্ভিসের ২০ বলে করা ২৭ রান আর জয়ের বন্দরে নিতে পারেনি জিম্বাবুয়েকে।
৩৯ রানের জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিলো বাংলাদেশ, তাই ফাইনালের আগে ছিটকে পড়তে হলো জিম্বাবুয়েকে।
বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নেন শফিউল, ২ উইকেট নেন আমিনুল ইসলাম ও ১টি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন, সাকিব আল হাসান আর মুস্তাফিজুর রহমান।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>