ফেনী প্রতিনিধি:

ছবি- সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীতে রহিমা সুন্দরী নামে এক নারী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূা। এ ঘটনায় সঞ্জু শিকদার ও নারী প্রতারক রহিমা সুন্দরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

সোনাগাজী পৌরসভায় মাঝি বাড়ির খোকন মিয়ার মালিকানাধীন রহিমা সুন্দরীর ভাড়া বাসায় ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গণধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ। এসময় ধর্ষকরা তার সঙ্গে থাকা এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও একটি মোবাইল ফোন লুটে নেয়।

পরে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে সঞ্জু শিকদার, রহিমা সুন্দরী ও আফলাছ হোসেনসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

নির্যাতিত গৃহবধূর স্বজনরা জানান, একটি মামলা করতে গিয়ে থানা থেকে নিরাশ হয়ে বের হওয়ার সময় ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত হন প্রতারক রহিমা সুন্দরী। নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে তার বাসায় নিয়ে যান।

১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সঞ্জু শিকদার, আফলাছসহ ৫ জন যুবককে পুলিশের লোক বলে তার ওপর লেলিয়ে দেন রহিমা। ওই অসহায় নারীকে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

সকালে জ্ঞান ফিরলে রহিমার কাছে এই নির্যাতনের কারণ জানতে চান সেই নারী। তখন সঞ্জু শিকদার ও আফলাছ নামের দুই যুবককে এনে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করান রহিমা।

১৭ সেপ্টেম্বর রাতে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বিষয়টি অবগত হয়ে তাৎক্ষণিক মামলাটি রুজু করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে সঞ্জু শিকদার ও রহিমা সুন্দরীকে আটক করে পুলিশ।

সঞ্জু শিকদার দাগনভূঞা উপজেলার খোকন শিকদারের ছেলে। তিনি সোনাগাজী পৌরসভার চরগণেশ গ্রামের রেহানার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। একসময় তিনি সোনাগাজী বাজারে মুচির কাজ করতেন। পরে প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে যান। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

স্বামী পরিত্যক্তা রহিমা সুন্দরী চর দরবেশ ইউপির চরসাহাভিকারী গ্রামের নূরুজ্জামানের কন্যা ও এক কন্যা সন্তানের জননী। তিন বছর ধরে সোনাগাজী মডেল থানায় কর্মরত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় বুয়ার কাজ করছিলেন তিনি।

খোকন মিয়ার মালিকানাধীন ভাড়া বাসায় থেকে বখাটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিভিন্ন প্রবাসী ও ব্যবসায়ী যুবকদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতেন রহিমা।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাশবিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>