রাজধানীতে গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাভুক্ত ক্লাবগুলোতে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর চালানোর সাথে সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন দলের নেতা। অভিযোগ আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও। ক্লাবগুলোর পরিচালনা পর্ষদের লোকজনের আছে রাজনৈতিক পরিচয়। র‌্যাব বলছে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আর অভিযুক্তদের বেশিরভাগই দলীয় হওয়ায় ক্ষুব্ধ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই ক্লাবপাড়াগুলোতে ক্যাসিনে বন্ধে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। ধরা পড়ে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জিকে শামিম সহ বেশ কয়েকজন সরকার দলীয় নেতাকর্মী।

তালিকাভুক্ত ৬০ টি ক্লাবের বেশীর ভাগই পরিচালনা করতো আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আর এ সবের মূল হোতা হিসেবে সবার উপরে উঠে আসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের নাম। বাদ পড়েনি আইশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।

ক্যাসিনো চালানোর সরঞ্জাম ধরা পড়েছে যেসব ক্লাবে তাদের বেশীর ভাগই নামিদামী ক্লাব। সেইসাথে আছে পুরোনো ঐতিহ্য।তাই ক্লাবগুলোর পরিচালনা পর্যদের মধ্যে ক্রীগা সংগঠক ছাড়াও রাজনীতিকরা । গত কয়েক বছরে এই ক্লাবগুলোতে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে ।

উল্লেখযোগ্য ক্লাবগুলোর মধ্যে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ফু-ওয়াং, ফকিরেরপুল ইয়ং মেনস ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, আরামবাগ, ভিক্টোরিয়া, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, সৈনিক ক্লাব, আজাদ বয়েজ ক্লাব পরিচালনার প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। যার বেশীর ভাগেরই পৃষ্ঠপোষক যুবরীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট। এছাড়া নাম এসেছে এলাকার এলাকার এমপি, ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ স্থানীয় থানার পুলিশ সদস্যদেরও।

থেমে নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা বলছে, ক্ষমতাধর হলেও তালিকা ধরে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, যারাই এসবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকবে তাদের সবাইকেই আমাদের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হবে।কাউকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

গ্রেপ্তার বেশীর ভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় ক্ষোভ কেন্দ্রীয় নেতাদের।যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি বলেন, যারাই এই বিতর্কিত কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন বা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যে পদক্ষেপ নিচ্ছে আমরা তা সাধুবাদ জানাই।

তবে, এত অভিযান চললেও এখনো ক্যাসিনো ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আটক করা হয়নি।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>