তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিদ্যালয়, ইটভাটা বসতভিটা, মাঠের পর মাঠ কৃষি জমি এমনকি পারিবারিক কবরস্থানও বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

জেলার গোয়ালন্দ উপজেলা দেবগ্রাম ইউনিয়নে গত কয়েক বছরের ভাঙনে ছোট হয়ে এসেছে ইউনিয়নটির আয়তন। দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম, লোকমান মেম্বার পাড়া, কাওয়ালজানিসহ আশপাশ এলাকায় ব্যাপক হারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায়র অধিকাংশ স্থাপনা সড়িয়ে নিয়েছে অনেক পরিবার। পদ্মার পাড়ে মায়ের কবর ভেঙ্গে যাচ্ছে এমন খবর পেয়ে কাটাখালি থেকে ছুটে এসেছেন গোলজার শেখ (৭০), ছোট ভাই আমজাদ হোসেন (৬৫) ও মোছের শেখ (৬০) সহ পরিবারের সদস্যরা। তাই শেষ বারের মতো তিন ভাই ও ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন মিলে কবর জিয়ারত করতে পানির ভিতর দাড়িয়ে জিয়ারত করছেন।

গোলজার শেখ বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে মা গোলজান বিবি মারা গেলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রায় দেড় মাস আগে একবার এসেছিলাম। তখন ভাঙন অনেক দূরে ছিল। একদিন আগে খবর পাইলাম মার কবরটা ভাইঙা যাচ্ছে। তাই শেষ বারের মতো মায়ের কবরের পাশে দাড়িয়েছি।

ছোট ভাই আমজাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১৪ বিঘা জমির ওপর বসত বাড়িসহ আবাদি জমি ছিল। এবছর ভাঙনে প্রায় সবাই বিলীন হয়েছে। এখন মাত্র বিঘা দুই জমি আছে। ভাঙনে গত বছর এখান থেকে আমরা দুই ভাই কাটাখালীর গ্রামে বড় ভাইয়ের বাড়ির কাছে চলে গেছি। ভাঙন আতঙ্কে গ্রামের প্রায় ১০০ পরিবার অন্যত্র গেছে। বসত ভিটা ও কৃষি জমি ছিল। কৃষি জমিতে ফসল আবাদ করতাম আর মায়ের কবরটা দেখে রাখতাম। মায়ের কবরের পাশে আমার বড় ছেলেরও কবর ছিল।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবাগত চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় দফায় পদ্মার ভাঙনের কারণে দেবগ্রামের চারটি গ্রামের নতুন করে প্রায় ১০০ পরিবার ভাঙন আতঙ্কে অন্যত্র গেছে। শতাধিক বিঘা কৃষি জমিও বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঝুকিতে রয়েছে এসব গ্রামের আরো প্রায় চার শতাধিক পরিবার। ভাঙন প্রতিরোধে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে অবগত করেছি।

ভাঙন নিয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম শেখ জানান, ‘এ বছর তেমন ভাঙন ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছি ভাঙন রোধে সবোর্চ্চ চেষ্টা করতে কিন্তু হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে এবং নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারণে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সব স্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে ভাঙন রোধে কাজ করে যাচ্ছি।’

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>