স্বাস্থ্য ডেস্ক:

নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেলে হাড় ক্ষয় ও কিডনী রোগের ঝুঁকি বাড়ে!

হজমের সমস্যায় প্রায় প্রত্যেকেই ভুগে থাকেন। তার সঙ্গে যদি জুড়ে বসে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা, তাহলে তো আর কথাই নেই। তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে গ্যৗাস্ট্রিকের সমস্যা তুড়ি মেরে দূর করা সম্ভব! তবে জেনে নিন কীভাবে?
গ্র্যাষ্ট্রিক হয় কেন?

প্রথমেই জানতে হবে, মানুষের শরীরে যে অম্ল থাকে, তার অনেক গুণ। এই অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে অম্লর পরিমাণ বেড়ে গেলে অ্যাসিডিটি হয়। ইনটেস্টাইনে ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা খাবার হজমে সাহায্য করে। এসব ব্যাকটিরিয়ার জন্য অ্যাসিডিক পরিবেশই ভাল। সেই পরিবেশ নষ্ট হলে ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। ফলে হজমের পদ্ধতি ধীরে হয়।

মনে রাখা জরুরি, প্রোটিন জাতীয় খাবার হজমে অ্যাসিড দরকার। তাই মাংস ম্যারিনেট করতে টক দই বা ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। আসলে সহজপাচ্য করতেই খাবারে অ্যাসিড যোগ করা হয়। প্রোটিন ভেঙে অ্যাসিড মেটা প্রোটিন তৈরি হয়, যা হজমের সহায়ক। তাই অ্যাসিড ব্যালান্স নষ্ট করা ঠিক নয়। অম্বলের ধাত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খান।

অনেক সময়ে বারবার ভাজাভুজি খাওয়ার ফলেই অম্বল হতে পারে। হয়তো বিকেলের দিকে খিদে পেয়েছে, একটা সিঙ্গারা খেয়ে নিলেন। তার আধ ঘণ্টা বাদে চা, মুড়িমাখা খেলেন। এতে কিন্তু অ্যাসিডের সম্ভাবনা বাড়ে। আপনি যত বার খাবেন, তত বার অ্যাসিড নিঃসৃত হয়। ফলে অ্যাসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত হলেই বুক জ্বালা, চোঁয়া ঢেকুরের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই খিদে পেলে এক বারে মুড়ি, শিঙাড়া খেয়ে নিন। পরের খাবার পরিমিত গ্যাপ দিয়ে খান।

বুক জ্বালাপোড়া থেকে রেহাই

ভারতের এক স্বনামধন্য জেনারেল ফিজিশিয়ান ডা. সুবীরকুমার মণ্ডল বলছেন, বেশিরভাগ বদহজম, গ্যাস, অম্বলের সমস্যায় মানুষ মুড়িমুড়কির মতো প্যান্টোপ্রাজল জাতীয় ওষুধ খান। এই ধরনের ওষুধ অ্যাসিডের ব্যালান্স নষ্ট করে দেয়। ফলে ভাল ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়। হিতে বিপরীতও হয়। তাছাড়াও তিন বছর টানা পিপিআই গ্রুপের ওষুধ খেলে অস্টিয়োপোরোসিসের আশঙ্কা থাকে। হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, কিডনির সমস্যাও হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে এই ধরনের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। জীবনযাপনে পরিবর্তন এনেই গ্যাস-অম্বল থেকে মুক্তি সম্ভব।

১. প্রত্যেক দিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে পারেন। এতে শরীর তৈরি থাকবে খাবার হজমের জন্য।

২. খাবারের মধ্যে কিছু পরিমাণ প্রোটিন রাখতে পারেন। এতে অ্যাসিড কাজে লেগে যাবে। প্রোটিন মানেই কিন্তু মাংস নয়। দুধ, ডাল, ছানা ইত্যাদি খাবার রাখতে হবে রোজকার খাদ্যতালিকায়।

৩. খেতে বসার মিনিট দশেক আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিন। এতে অতিরিক্ত অ্যাসিড ওয়াশ আউট হয়ে যাবে। ফলে অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

চিকিৎসকের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে পানি খাওয়ার যে ধারণা আছে, তা কিন্তু ভুল বলে প্রমাণিত। কারণ এতে অ্যাসিড বা এনজাইম যা নিঃসৃত হয়, তা কাজে লাগে না। বরং খাওয়ার দশ মিনিট আগে পানি খেলে কাজে লাগবে বেশি।

৪. যাদের অ্যাসিডিটির ধাত আছে, তাদের অ্যান্টাসিড খেতে হবে। সকালের দিকেই সাধারণত অ্যান্টাসিড খেয়ে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু সেটা রাতে খেতে বসার আগে খেলেই বেশি কাজ হয়। সকালের পরে যেহেতু মানুষ দাঁড়িয়ে, বসে থাকে বা হাঁটাচলা করে, ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা কম থাকে। বরং রাতে শুয়ে পড়লে উপরের দিকে অ্যাসিড উঠে আসার সম্ভাবনা বেশি। তাই রাতে অ্যান্টাসিড খেলেই উপকার বেশি।

গ্যাস হয় কেন?

অনেকেরই ধারণা গ্যাস হলেই অম্বল হবে বা উল্টোটা। কিন্তু এই দুইয়ের যোগাযোগ নেই। গ্যাস হলে অম্বল না-ও হতে পারে। গ্যাস হওয়ার কারণ ভিন্ন। প্রত্যেক দিন খাবার খাওয়ার সময়ে অনেক ফাইবার খাওয়া হয়। ইনটেস্টিনাল ব্যাকটেরিয়া বা এনজাইম যখন ফাইবার বার্ন করে, তখন বুদ্বুদের সৃষ্টি হয়।

সেটাই গ্যাস আকারে মুখ দিয়ে বা পায়ুদ্বার দিয়ে নির্গত হয়। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং বায়ু নির্গত হওয়া শরীরের পক্ষে ভাল। যারা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের কিন্তু খাবারে ফাইবার বাছতে হবে সতর্কভাবে। ফাইবার বন্ধ তো করা যাবে না, বিকল্প খুঁজতে হবে। রুটি খেয়ে গ্যাস হলে ওট্স বাছতে পারেন।

উপশমের উপায়

১. প্রথমেই জেনে রাখতে হবে, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পেঁয়াজ, রুটি, পালং শাক ইত্যাদি খাবারে গ্যাস বেশি হয়। এই ধরনের খাবার খেতে হলে দিনের প্রথমার্ধে খাওয়াই ভাল।

২. রাতে রুটি খেলে ডিনার সারতে হবে রাত নয়টার মধ্যে। খেয়ে উঠে হাঁটার অভ্যেস থাকলে ভাল। ব্যায়াম ও শারীরচর্চা নিয়মিত জরুরি। নিজেকে যত সচল রাখবেন, গ্যাস তত কম হবে।

৩. দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার অর্থাৎ পনির, ছানা, চিজ খেলেও গ্যাস হয়। সেক্ষেত্রে চিন্তা নেই। ল্যাকটো-এনজাইম খেয়ে নিতে পারেন। কোনো সাইড এফেক্ট নেই।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>