অনলাইন ডেস্ক:

এমপি শাওন, হুইপ সামশুল হক, যুবলীগের সম্রাট, জি কে শামীমসহ ২৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা।

ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং বিদেশে অর্থপাচার সংক্রান্ত বিষয়ে ভোলা-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং সরকারি দলের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং অন্যান্য দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক। উক্ত ব্যক্তিরা দেশত্যাগের চেষ্টা করায় দুর্নীতি দমন কমিশন আজ এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন বিদেশ যেতে না পারে সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তারা হলেন:

১. এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ২. খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ৩. এনামুল হক এনু ৪. রূপন ভূঁইয়া ৫. লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ৬. নাবিলা লোকমান ৭. ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ৮. জাকির হোসেন ৯. মোহাম্মদ শফিকুল আলম ১০. মো. রফিকুল ইসলাম ১১. মো. আব্দুল হাই ১২. মো. সেলিম প্রধান ১৩. মো. এনামুল হক আরমান ১৪. আবুল কালাম আজাদ ১৫. হাবিবুর রহমান (মিজান) ১৬. কাজী আনিসুর রহমান ১৭. মিসেস সুমি রহমান ১৮. এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ১৯. নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ২০. সামশুল হক চৌধুরী ২১. মো. শফিকুল ইসলাম ২২. মো. জাকির হোসেন এবং ২৩. প্রশান্ত কুমার হালদার।

উপরোক্ত ব্যক্তিরা যেন দেশত্যাগ করে পালিয়ে যেতে না পারে সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের সীমান্তগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন বিভাগকেও সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি, ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নাম-ঠিকানা যাচাই ও পাসপোর্টের সঙ্গে তাদের ছবি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। আর জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য যাত্রীদের আঙুলের ছাপ নেয়ার পাশাপাশি তুলে রাখা হচ্ছে ছবি।

এর আগে, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর এমপি শাওনের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এরপর, বাংলাদেশ ব্যাংক এমপি শাওন ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত করে। অপরদিকে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রামে চালানো অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি সামশুল হক। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবে জুয়ার আসর বসিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, এই দুই এমপির বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে দুদকে। কমিশন ঐসব অভিযোগ যাচাই বাছাই করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের সম্পদের খোঁজ নিতে কাজ শুরু করেছে।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>