৫২ ডেস্ক :
আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিমানবন্দরে নামার পর থেকে তাকে এ সময়ের মধ্যে (৭ নভেম্বর পর্যন্ত) গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার এ সংক্রান্ত আবেদন শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও খোন্দকার দিলুরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

উল্লেখ্য, ট্রেড ইউনিয়নের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগের মামলায় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে সময় চেয়ে ড. ইউনূসের পক্ষে আবেদন করা হয়।

ড. ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার অনুমতি না দেয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

ওই মামলার শুনানি নিয়ে গত ১০ জুলাই ঢাকার আদালত প্রথমে সমন জারি করেন। এরপর ৮ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু ওইদিন অক্টোবর পূজার বন্ধ থাকায় পরদিন (৯ অক্টোবর) মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে দুজনের জামিন মঞ্জুর করলেও ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন গঠন করায় চাকরিচ্যুতের অভিযোগে গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের তিন কর্মচারী এমরানুল হক, শাহ্ আলম ও আব্দুস সালাম গত ৩ জুলাই ড. ইউনূসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ে করেন। ওই মামলার শুনানি নিয়ে গত ৯ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীনকে জামিন দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার বাদীরা গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের স্থায়ী পদে এমআইএস অফিসার (কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে কাজে যোগদান করেন। শ্রমিক হিসেবে নিজেদের সংগঠিত হওয়া ও নিজেদের কল্যাণের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

সে অনুযায়ী নিজেরাসহ অন্য শ্রমিক সহকর্মীদের নিয়ে ‘গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ (প্রস্তাবিত) নামে একটি ইউনিয়ন গঠন করেন এবং তা আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন। ইউনিয়ন গঠনের বিষয়টি জানতে পেরে মামলার আসামিরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনেও তারা বাধা দেন।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>