স্টাফ রিপোর্টার:

সৌদি আরব থেকে নিথর দেহ ফেরার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই গেল দশ মাসে সৌদি আরব থেকে ফিরেছে ৪৯ নারীর মরদেহ।
অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় সৌদি আরবে গিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। আজও এক নারীসহ একুশ জনের মরদেহ দেশে ফিরেছে। এ নিয়ে চলতি অক্টোবরেই দেশটি থেকে ২১ নারীসহ ১৬৩ জনের মরদেহ ফিরল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শ্রমিকদের মরদেহ গ্রহণ করেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এরমধ্যে পারভীন আকতার নামে এক গৃহকর্মীর মরদেহও রয়েছে। মৃত্যু সনদে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও তার পরিবারের দাবি, নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন পারভীন। তার সঙ্গে পরিবারের সবশেষ যোগাযোগ হয়েছিল ১৫ই সেপ্টেম্বর। এর পাঁচ দিনের মাথায় মৃত্যু হয় বলে সৌদি আরবের মৃত্যু সনদে বলা হয়েছে।

ভাগ্য ফেরাতে সৌদি আরবে যাওয়া গৃহকর্মীদের একজন নাজমা বেগম। ১০ মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের নাজমা বেগম। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ দেয়ার কথা বলা হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর এক বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় নাজমাকে। সেখানে তার ওপর চলে শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন। মারা যাওয়ার দু’দিন আগেও ভিডিও কলে নির্যাতনের বর্ণনা দেন নাজমা। কিন্তু, বাঁচতে পারেননি মানিকগঞ্জের নাজমা। মৃত্যুর একমাস পরে তার মরদেহ দেশে ফেরত আসে।

শুধু নাজমা নন, চারবছরে তারমতো লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন ১৫২ জন। আর বেতন না পাওয়া, যৌন নির্যাতনসহ অন্যান্য নির্যাতন সহ্য করে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন ৩৯০জন। এ বিষয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক বলছে, মরদেহ আসা নারীদের ১১ভাগ সেখানে আত্মহত্যা করেন।

এদিকে, গেল দশ মাসে শুধু সৌদি আরব থেকেই ৪৯ নারীকর্মীর মরদেহ এলেও এখনই সেখানে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের কথা ভাবছে না সরকার। বরং নারী শ্রমিকদের আরও দক্ষ করে এবং যথেষ্ট সুরক্ষার ব্যবস্থা করে সৌদি আরবে পাঠানোর পক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আর সেখানে যেন কোনো নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার না হন সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

এতকিছুর পরও সৌদি আরবে নারীকর্মীদের যেতে কোনো বাধা নেই বলে মনে করেন সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। তিনি এসব ঘটনার দায় চাপান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ওপর। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ মনে করেন, এখনও দেশটিতে কর্মী পাঠানো বন্ধ করার সময় আসেনি। তাছাড়া কর্মীরা নিজের ইচ্ছায় সেখানে যান। তাদেরকে আরও দক্ষ করে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আগামী ২৬শে নভেম্বর বাংলাদেশ-সৌদি আরব যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে তোলা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>