কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা সংলগ্ন যশোরের শেষ উপজেলা কেশবপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক গত দুইদিন যাবৎ বিদ্যুৎ বঞ্চিত রয়েছেন। অপরদিকে উঠতি আমন ধান, শাক-সবজিসহ কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘেরের অবকাঠামোর।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কেশবপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম আবু আনাস মো. নাসের জানান, গত রবিবার ভোর রাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে এ উপজেলায় গাছ উপড়ে পড়ে ১৫৬ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১০টি স্থানে খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। অসংখ্য খুঁটি হেলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন দিনরাত শ্রম দিয়ে লাইন মেরামতের কাজ করছে। মঙ্গলবারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উঠতি আমন ধান হেলে পানির সঙ্গে মিশে গেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষকরা ধান বাঁচাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকের ভাষ্যমতে, বিলের অধিকাংশ পাকা ধান পানিতে মিশে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে আমন ধান, সরিষা, মসুর, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও কলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল বারী জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। তবে মৎস্য ঘেরের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে ঘরের উপর পড়ে অসংখ্য কাঁচাপাকা ঘর ভেঙ্গে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রিজিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্যে সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জানানো হয়েছে। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>