নিজস্ব প্রতিবেদকঃঃসিলেট-৩ আসনের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আজ। সকাল ৮টায় সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার নির্ধারিত ১৪৯ ভোটকেন্দ্রে একযোগে হবে ভোটগ্রহন। টানা আটঘন্টা ভোটগ্রহনের পর আসবে সেই মাহেদ্রক্ষণ। যেখান থেকে একজন ফিরবে বিজয়ের উল্লাসে, আর বাকি তিনের হবে পরাজয়ে নীরব প্রস্থান।

তবে সিলেট-৩ আসনের সচেতন ভোটারদের মন্তব্য একটাই- ‘লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি’। আপাতত সবাই নৌকা আর লাঙ্গল নিয়ে বাজি ধরলেও অন্য এক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যে বাজিমাৎ করতে পারেন; তাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ। তবে সবারই প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচনের। মানুষ যাতে উৎসাহ-উদ্দীপনার নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তার ভোট দিয়ে আসতে পারে এমন প্রত্যাশা সকলের।

নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার দুপুরেই সকল নির্বাচনী সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌছানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ৩ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব নির্বাচনী সরঞ্জাম নির্ধারিত ১৪৯ ভোটকেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়। একইসাথে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্ব স্ব কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে কোনো নির্বাচন এলেই সেটা সুষ্ঠু হবে কিনা এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন। থাকে নানা কৌতূহল-আশঙ্কা। এমনকি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া না হওয়ার মাঝেও ফলাফলে থাকে নানা হিসেব-নিকেশ। তবে সাধারণ মানুষের সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সিলেট ৩ আসনের উপ-নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

রিটানিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম জানান- উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা। ভোটকেন্দ্রে থাকবে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশের ১৭ থেকে ১৮ জন সদস্য। আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য।

এছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত ২১টি মোবাইল ফোর্স, ১২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ১২টি টহল টিম ও ১২ প্লাটুন বিজিবি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় বিজিবির সঙ্গে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তাদেরকে মনিটরিং করবেন ৩ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।

আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে সিলেট-৩ আসনের ভোটগ্রহণ। যেখানে ৩ লাখ ৫০ হাজার ভোটার তাদের সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের আতিকুর রহমান আতিক, সতন্ত্র থেকে মোটর কার প্রতীকের বিএনপি থেকে বহিস্কৃত ও সাবেক সাংসদ শফি আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ছাড়া বাকি ৩ জনই ভোট চেয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেরিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১ মার্চ এ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করলে ১৪ জুলাই ভোটের তারিখ দেয় ইসি। ওইদিন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী হওয়ায় দলটি ভোট পেছানোর দাবি করে। সেই দাবি আমলে নিয়ে পরবর্তীতে ২৮ জুলাই ভোটের পুনর্তারিখ দেয় কমিশন। কিন্তু একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভোটের উপর স্থগিতাদেশ দেন এবং ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটগ্রহণ করার নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে কমিশন গত ২৩ আগস্ট ভোটের নতুন তারিখ দেয় ৪ সেপ্টেম্বর।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>