ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি: : সিলেটের ওসমানীনগরে প্রেম করে বিয়েতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এক প্রবাসীর জীবন। স্ত্রীর উচ্চবিলাসী আবদার মেটাতে প্রবাসে উপার্জিত কয়েক লক্ষ টাকা হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব।পাশাপাশি স্ত্রীর কথামতো না চললে প্রায়ই তার উপর নেমে আসতো নির্যাতনের খড়গ।এমন কি পরবর্তীতে স্ত্রীকে তালাক দিয়েও শান্তিতে থাকতে পারছেন না তিনি।

জানা যায়, উপজেলার তাজপুর ইউপির রঙ্গিয়া গ্রামের ছইফ উল্যার ছেলে নজরুল ইসলাম ২০০৬ সাল থেকে লন্ডনের একটি হোটেলে শেফের কাজ করতেন। ২০১৫ সালে ফেসবুকে পরিচয় হয় বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের শাহ ফরমান আলীর শিক্ষিকা মেয়ে ফেরদৌসীর সাথে। প্রবাস থেকেই পরিচয় সূত্রে প্রেম।
এবং পরবর্তীতে ২০১৭ সালে নজরুল ইসলাম দেশে এসে ৮ ডিসেম্বর ফেরদৌসী বেগমকে বিয়ে করেন।যৌথ পরিবারে নজরুলরা ৩ ভাই। এরমধ্যে তিনি সবার ছোট। কিন্তু বিয়ের
প্রথম রাতেই ফেরদৌসী পরিবার থেকে পৃথক হওয়ার জন্য নজরুল ইসলামকে চাঁপ দেন।

বড় দুইভায়ের আয়ের তেমন কোন উৎস না থাকায় নজরুল পৃথক হতে অসম্মতি জানান। ওইরাতেই স্বামীকে মারপিট করেন নববধূ। সহজ সরল নজরুল অনেকটা লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। বিয়ের দুদিন পর নজরুল সস্ত্রীক শ্বশুর বাড়িতে ফিরাগমনে গেলে আর্থিক ও স্বাস্থ্যের উন্নতির কথার বলে ফেরদৌসী তাকে কবিরাজী করান। এরপর থেকে নজরুল অনেকটা অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েন। শ্বশুর বাড়ি ফিরে ফেরদৌসী বসতঘরের একটা অংশ গ্রিল দিয়ে পৃথক করে স্বামী নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘরের দরজায় সার্বক্ষণিক তালা থাকায় নজরুল ইসলাম তার মা-
বাবা-বড় দুইভাই সহ কারো সাথেই দেখা করতে পারছিলেন না। শুধুমাত্র ফেরদৌসী কোন কাজে ঘরের বাইরে গেলে স্বামীকে সাথে নিয়ে যেতেন। ফেরদৌসী স্বামীকে পুণরায় লন্ডন যাওয়ার সুযোগও দিচ্ছিলেন না। দীর্ঘদিন গৃহবন্দি
নজরুলকে রান্না থেকে শুরু করে ঘরের সব কাজ করতে হতো। কাজে সামান্য ভুল হলেই নজরুলের ভাগ্যে নিযার্তন নেমে আসতো। কয়েকমাস পূর্বে ফেরদৌসী
তার শ্বশুর ছইফ উল্যা (৯৫) ও শাশুড়ি সূর্যবান বিবিকে (৮৫) মারপিট করে মূল বসত ঘর থেকে বের করে দেন। আশ্রয় না পেয়ে তারা আলাদা একটা চালা ঘরে আশ্রয় নেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঘরের কাজ করা নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ফেরদৌসী লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে নজরুল চিৎকার শুরু করেন্। চিৎকারে তার মেজো ভাই
পিয়ার আলীসহ বাড়ির সবাই এগিয়ে আসেন। এ সুযোগে স্ত্রীর হাত থেকে চাবি নিয়ে ঘরের গ্রীলের তালা খুলে নজরুল পালিয়ে যান। পরদিন ফেরদৌসী তার ভাই খসরু মিয়াকে নিয়ে ঘরে থাকা মূল্যবান সামগ্রীসহ বাবার বাড়িতে চলে
যান। পলাতক অবস্থায় নজরুল গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেটে আদালতের মাধ্যমে ফেরদৌসীকে ডিভোর্স দেন। কিন্তু ডিভোর্সের পরেও শান্তি পাচ্ছেন না তিনি।তাকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।পঁচাশি বছরের বৃদ্ধা সূর্যবান বিবি বলেন, নজরুল ছোট সন্তান হওয়ায় সে ছিল সবার আদরের। কিন্তু ওর স্ত্রী আসার পর আমাদের সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।ফেরদৌসীর নিযার্তন থেকে আমি ও আমার স্বামীও রেহাই পাননি। শেষ পর্যন্ত আমাদের ঘরের বাইরে বের করে দিলে আমরা পূবের ঘরে আশ্রয় নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। ওকে আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না।নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাস থেকে ফিরে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ফেরদৌসীকে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু এরপর আমার সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। তার উচ্চবিলাসী শখ মেটাতে প্রবাসে উপার্জিত আমার লাখ লাখ টাকা ওর পেছনে খরচ হয়েছে। আমায় প্রায় গৃহবন্দি করে রেখেছিল। এমনকি গত চার বছর আমি মসজিদে গিয়ে
নামাজ পড়ারও সুযোগ পাইনি। ঘরের সব কাজ আমাকেই করতে হতো। ওর বাবার বাড়িতেও নিয়মিত টাকা পাঠাতে হতো। কোন ভুল হলেই ফেরদৌসী আমার উপর নিযার্তন করতো। লজ্জা ও মান-সম্মানের ভয়ে ওর সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু ও আমার বৃদ্ধ বাবা-মা মাকে মারপিট করে ঘর থেকে বের করে দিলে সহ্য করতে পারছিলাম না। অনেকটা না খেয়েই তারা জীবন কাটালেও গ্রীলের ফাঁক দিয়ে দেখা ছাড়া আমার কিছু করার ক্ষমতা ছিল না। ফেরদৌসী আমার বাড়িতে থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা এমনকি আমার পাসপোর্টও নিয়ে দরজায় তালা দিয়ে চলে যায়। তালাক দেওয়ার পরও নানাভাবে আমাকে হুমকী দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় ইউপি সদস্যা নেওয়া বেগম বলেন, দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যা হয়। কিন্তু
এরকম ঘটনা কখনো শুনিনি। এই ফেরদৌসী বেগমের কান্ডে আমি নিজেই হতবাক। এসব বিষয় সমাধানে আমি একাধিকবার তাদেও বাড়িতে গেছি। কিন্তু ওই মহিলা কাউকেই মানতে চায় না। নিজের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িকেও নিযার্তন করেছে। কোন কিছু বললেই দা নিয়ে তেড়ে আসে। পরে আমি তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।
গ্রামের প্রবীণ আপ্তাব উদ্দিন বলেন, এই বিষয় নিয়ে আমরা পঞ্চায়েতের লোকজন অনেকবার বসেছি। কিন্তু এই মহিলা বাজে প্রকৃতির হওয়ায় আমরা কোন সমাধানে যেতে পারিনি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ফেরদৌসী বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু দেখেছি। আসলেই এই পরিবারটি নানা অশান্তিতে রয়েছে।লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাটি খতিয়ে দেখবো।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুনঃ

Facebook comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>